পুলিশ হেফাজতে মাদক চোরাকারবারী কাউনিয়ার রাসেল এর মৃত্যু




কাউনিয়া প্রতিনিধি : রংপুরে পুলিশ হেফাজতে সোহেল রানা ওরফে রাসেল (২৬) নামে মাদক চোরাকারবারী ও ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে।

পুলিশ জানায়, হেরোইনের বিষক্রিয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে। তবে রোববার সকালে পুলিশের নির্যাতনে সোহেলের মৃত্যু হয় বলে পরিবারের লোকজন দাবী করে। মৃত রাসেল কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের হলদীবাড়ী গ্রামের রুহুল আমিন ওরফে ক্যাপ্টেন এর ছেলে। রাসেল ও তার পরিবারের সদস্যরা সকলে মাদক চোরাকারবারীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। সেই সঙ্গে রাসেল নিজে মাদক সেবন করতেন। হেরোইন, গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য বিক্রির অপরাধে রাসেলের নামে লালমনিরহাট, রংপুর কোতোয়ালী ও কাউনিয়া থানায় মামলা আছে। সেই সঙ্গে রাসেলের বাবা ও বোনের নামেও কাউনিয়া থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।
পুলিশ আরো জানায়, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রংপুর নগরীর সাতমাথা এলাকার চায়না সিনেমা হল সংলগ্ন সড়ক থেকে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তর জোনের একটি দল রাসেলকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার অভিযানে ছিলেন ডিবি পুলিশের উত্তর জোনের উপ-পরিদর্শক (এসআই) বাবুল ইসলাম ও কনস্টেবল গোলাম মোর্শেদ। পরে রোববার ভোরে রাসেল অসুস্থ হলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সকাল ১০টার দিকে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

কিন্তু অসুস্থজনিত কারণে মৃত্যুর বিষয়টি মানতে রাজি নয় নিহত রাসেলের বোন সোহানা মনি। তিনি দাবি করেন, শনিবার রাত ১০টার পর কাউনিয়ার হলদীবাড়ি গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে রাসেলকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর পরিবারের লোকজনের কাছে দেড় লাখ টাকা দাবী করা হয়। টাকা না দেওয়ায় তার ভাইকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

এদিকে টাকা দাবীর বিষয়টি অস্বীকার করে ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতার হওয়ার আগে সে ২বোতল ফেন্সিডিল ও ৬পুরিয়া হেরোইন সেবন করেছিলেন। এরপর তাকে রংপুর কোতোয়ালী থানায় রাখা হয়। সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়লে ভোরে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, নিহত রাসেলের বিরুদ্ধে লালমনিরহাট, কাউনিয়া ও রংপুরের কোতোয়ালী থানায় মাদকের মামলা রয়েছে। তার পরিবারের সকল সদস্য মাদক চোরাকারবারির সঙ্গে জড়িত।
রংপুরের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, ময়না তদন্তের প্রতিবেদনে যদি মারপিটের চিহ্ন উল্লেখ থাকে, তবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে কোনো কথা বলা সম্ভব নয়।
Share on Google Plus
    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment